রাজধানীর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আজ রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরের এক আদেশে এই তথ্য জানানো হয়। ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাহরিয়ার আলী এই আদেশে সই করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেয় একদল দুর্বৃত্ত। ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটারের মধ্যে শাহ আলী থানা। এই ঘটনার পর এখন শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীরকে প্রত্যাহার করা হলো।
তবে ওসি জাহাঙ্গীরকে প্রত্যাহার করার বিষয়ে ডিএমপির আদেশে এই ঘটনার উল্লেখ নেই। আদেশ বলা হয়, নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীরকে ‘প্রশাসনিক কারণে’ প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ–শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশুস্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ২০০ থেকে ২৫০ ব্যক্তি এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা চালায়। দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, টাকাসহ অন্যান্য মালপত্র লুট করা হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চালানো এ হামলায় এক্সক্যাভেটর দিয়ে একটি পাকা, তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নাম লেখা দুটি সাইনবোর্ড ও দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, হামলা–ভাঙচুর–লুটপাটের সময় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও স্থাপনা রক্ষা করতে পারেনি।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে সব মিলিয়ে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানা-পুলিশ। এরপর গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ডিএমপির কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশের উপস্থিতিতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাত পৌনে দুইটার দিকে ঘটনাটি ঘটেছিল। খবর পাওয়ার পর পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না, কারও অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ জন্য ডিএমপির দারুসসালাম অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে শনিবারের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে পুলিশের কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপির কমিশনারের এমন ঘোষণার পর দিন শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হলো।