দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনের নিয়মে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিদ্যমান প্রবিধানমালায় সংশোধনী এনে একটি নতুন খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আনা হয়েছে সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
খসড়া অনুযায়ী, কমিটি বা গভর্নিং বডির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা—চাকরিরত হোক বা অবসরপ্রাপ্ত—তাঁদেরও সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সভাপতি হতে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রির শর্তটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
গতকাল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদন পাওয়ার পরই সংশোধনীটি চূড়ান্ত রূপ পাবে।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথমে কমিটির বিভিন্ন সদস্যপদে নির্বাচন হবে, এরপর সাত দিনের মধ্যে সভাপতি নির্বাচনের সভা ডাকতে হবে, যাতে সভাপতিত্ব করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন, তবে সভায় নির্বাচিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সমান ভোট পড়লে লটারির মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে খসড়ায়। সভাপতির পদ শূন্য হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচনের বিধানও রাখা হয়েছে।
গভর্নিং বডির ক্ষেত্রে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে তালিকায় নামের ক্রম কোনো অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য হবে না।
খসড়ায় সভাপতির কিছু ক্ষমতা—যেমন প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা—সীমিত করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি একজন ব্যক্তি কতগুলো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তারও সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে—এনটিআরসিএ থেকে নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগ এবং প্রয়োজনে পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন প্রস্তাবে।
সভায় অংশ নেওয়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার পরই মন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে তা নীতিমালা আকারে জারি করা হবে।